Thursday April 2026

হটলাইন

কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ এ ০৫:৩৯ PM

✨ নামজারি রিভিউ ও খতিয়ান সংশোধন: আপনার অধিকার, আপনার হাতের নাগালে ✨

কন্টেন্ট: গল্প নয় সত্যি

✨ নামজারি রিভিউ ও খতিয়ান সংশোধন: আপনার অধিকার, আপনার হাতের নাগালে ✨

উপজেলা ভূমি অফিস, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ

প্রিয় ভৈরববাসী,
আমাদের অনেকেই নামজারি সম্পন্ন করার পর খতিয়ান হাতে পেয়ে দেখি—কোথাও বানান ভুল, কোথাও পিতার নাম বা দাগ নম্বরে অসঙ্গতি। কেউ কেউ বুঝতে পারি, রেকর্ডে ভুলবশত অন্যের নাম চলে এসেছে। তখনই শুরু হয় বিভ্রান্তি ও হয়রানির আশঙ্কা। অথচ আপনি জানলে খুশি হবেন—এই ভুলগুলো সংশোধন এখন অনেক সহজ, দ্রুত এবং সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন নাগরিকরা নিজেরাই ৩০ দিনের মধ্যে অনলাইনে রিভিউ (Review) বা খতিয়ান সংশোধন আবেদন করতে পারেন। এটি আপনার অধিকার—আপনার হাতের নাগালে।


📜 নামজারি রিভিউ কী?

নামজারি রিভিউ হলো এমন একটি আইনগত প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে আপনি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর প্রদত্ত পূর্ববর্তী নামজারি আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করতে পারেন।

যদি আপনি মনে করেন—

  • নামজারি সিদ্ধান্তটি আপনার পক্ষে হয়নি,

  • খতিয়ানে ভুল তথ্য রয়েছে,

  • বা নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংশোধনের প্রয়োজন আছে,
    তাহলে আপনি রিভিউ আবেদন করতে পারবেন।

এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, কোনো নাগরিক যেন তার বৈধ অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।


⚖️ আইনি ভিত্তি: রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ধারা ১৫০

এই আইনে বলা হয়েছে—রাজস্ব কর্মকর্তা তাঁর পূর্ববর্তী আদেশ রিভিউ করতে পারেন, প্রয়োজনে তা পরিবর্তন, খণ্ডন বা বহাল রাখতে পারেন।
তবে শর্ত হলো—

  • রিভিউ আবেদন অবশ্যই আদেশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে।

  • যদি আপিল বা রিভিশন করা হয়ে থাকে, তবে রিভিউ করা যাবে না।

এটি নাগরিকের একটি সংবিধান-সম্মত অধিকার—যার মাধ্যমে ভুল সংশোধন ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।


💻 অনলাইনে আবেদন করার প্রক্রিয়া

নামজারি রিভিউ এখন সম্পূর্ণভাবে অনলাইন পদ্ধতিতে করা যায়। এজন্য আলাদা দালাল বা কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

🧭 ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া:

1️⃣ www.land.gov.bd ওয়েবসাইটে লগইন করুন।
2️⃣ “আবেদন অবস্থা দেখুন” এ ক্লিক করে আপনার মামলার বিস্তারিত তথ্য খুলুন।
3️⃣ “সম্পূরক আবেদন (খতিয়ান রিভিউ)” বাটনে ক্লিক করুন।
4️⃣ ফর্মে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন ও প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করুন।
5️⃣ নির্ধারিত কোর্ট ফি ও নোটিশ ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন।
6️⃣ জমা দেওয়ার পর এসিল্যান্ড অফিস থেকে একটি প্রাপ্তিস্বীকার নম্বর (Acknowledgement) পাবেন।


📑 যা যা লাগবে:

  • সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর প্রদত্ত নামজারি আদেশের কপি

  • খতিয়ানের কপি ও প্রাসঙ্গিক দলিল

  • দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র (দলিল, রায়, ওয়ারিশ সনদ ইত্যাদি)

  • অনলাইনে প্রদত্ত কোর্ট ফি এবং নোটিশ ফি রসিদ


🕒 সময়সীমা:

রিভিউ আবেদন আদেশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে।
যদি ৩০ দিন অতিক্রম হয়ে যায়, তবে “তামাদি মওকুফ” (Condonation of Delay) এর জন্য লিখিত আবেদন করতে হবে এবং সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে উপস্থিত হতে হবে।

এক্ষেত্রে এসিল্যান্ড তাঁর অফিসিয়াল ড্যাশবোর্ড থেকে রিভিউ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।


⚖️ শুনানি ও সিদ্ধান্ত:

আবেদন পাওয়ার পর এসিল্যান্ড বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পরীক্ষা করবেন।
যদি প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন মনে হয়, তাহলে উভয় পক্ষকে শুনানির জন্য নোটিশ প্রদান করবেন।
শুনানিতে আপনার বক্তব্য, প্রমাণ এবং জমির দলিল উপস্থাপনের সুযোগ থাকবে।

অবশেষে, যথাযথ যাচাই শেষে সিদ্ধান্ত প্রদান করবেন—যাতে ন্যায়বিচার ও সঠিক মালিকানা নিশ্চিত হয়।


⚠️ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

  • রিভিউ আবেদন একবারের জন্যই করা যায়।

  • রিভিউতে যদি পুনরায় আপনার বিপক্ষে সিদ্ধান্ত হয়, তার বিরুদ্ধে আর কোনো আপিল করা যায় না।

  • তাই প্রথমবারেই সঠিকভাবে আবেদন করুন, প্রমাণাদি সংযুক্ত করুন এবং প্রয়োজন হলে ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা উপজেলা ভূমি অফিসের পরামর্শ নিন।


🧾 রেকর্ড সংশোধন (Khatiyan Correction)

যদি আপনি খতিয়ানের করণিক ভুল, প্রতারণামূলক অন্তর্ভুক্তি বা যথার্থ ভুল দেখতে পান, তবে এটি খতিয়ান সংশোধন মামলা (Record Correction Case) হিসেবে আবেদন করা যাবে।

ভুলের ধরন:
1️⃣ করণিক ভুল (যেমন বানান, দাগ, নামের ত্রুটি)
2️⃣ প্রতারণামূলক অন্তর্ভুক্তি (Fraudulent Entry)
3️⃣ যথার্থ ভুল বা প্রকৃত ভুল (Bona fide Mistake)

এসব ভুল সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে সংশোধন করা হয়।


🌐 কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

একটি সঠিক রেকর্ড বা খতিয়ানই ভূমি মালিকানার প্রধান আইনি প্রমাণ।
যদি খতিয়ানে ভুল থেকে যায়—

  • মালিকানা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে,

  • নামজারি জটিল হতে পারে,

  • ভবিষ্যতে উত্তরাধিকার ও দলিল লেনদেনে সমস্যা হতে পারে।

তাই খতিয়ান সঠিক রাখা মানে, আপনার সম্পত্তি নিরাপদ রাখা।


💡 সহজ পরামর্শ:

  • নামজারি করার পর খতিয়ান হাতে পেয়েই ভুল আছে কি না দেখে নিন।

  • ভুল পেলে ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ করুন।

  • কোনো দালালের সহায়তা না নিয়ে সরাসরি অনলাইনে আবেদন করুন।

  • প্রয়োজনে ইউনিয়ন ভূমি অফিস বা উপজেলা ভূমি অফিসে পরামর্শ নিন।


🌿 আমাদের অঙ্গীকার:

ভূমি সেবা এখন দ্রুত, স্বচ্ছ, ও হয়রানিমুক্ত
ভৈরব উপজেলা ভূমি অফিসের প্রতিটি কর্মকর্তা আপনার পাশে আছেন।
আপনার প্রতিটি আবেদন আইনি সুরক্ষা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে সঠিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয়।

👉 ভুল খতিয়ান এখন আর ভয় নয়—
আপনার অধিকার এখন আপনার হাতের নাগালে।


✍️
এ. এইচ. এম. আজিমুল হক
সহকারী কমিশনার (ভূমি)
ভৈরব, কিশোরগঞ্জ

ফাইল ১

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন